সৌমিত্র শ্রীমানী রচিত এবং নিউ সেন্ট্রাল বুক এজেন্সি (NCBA) দ্বারা প্রকাশিত “ভারতের মধ্যযুগ” বইটি মূলত ভারতের উচ্চশিক্ষা (কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়) স্তরের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী রচিত। আনুমানিক অষ্টম শতাব্দী থেকে অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত বিস্তৃত মধ্যযুগীয় ভারতের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস এই বইটিতে অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
নিচে এই বইটির প্রধান প্রধান পাঠ্যসূচি ও ঐতিহাসিক বিষয়বস্তুর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:
১. দিল্লি সুলতানি আমল (The Delhi Sultanate)
- রাজনৈতিক বিবর্তন: তরাইনের যুদ্ধের পর ভারতে তুর্কী শাসনের প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে দাস বংশ, খলজি, তুঘলক, সৈয়দ ও লোদী বংশের উত্থান-পতন আলোচনা করা হয়েছে।
- আলাউদ্দিন খলজির সংস্কার: আলাউদ্দিন খলজির বাজার দর নিয়ন্ত্রণ নীতি, রেশনিং ব্যবস্থা এবং সামরিক সংস্কারের ওপর বিশেষ আলোকপাত করা হয়েছে।
- মহম্মদ বিন তুঘলকের পরীক্ষা-নিরীক্ষা: রাজধানী পরিবর্তন, তামার নোট বা প্রতীকী মুদ্রা প্রবর্তন এবং তাঁর বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যর্থতার ঐতিহাসিক মূল্যায়ন।
- ইকতা প্রথা: সুলতানি আমলের ভূমি রাজস্ব ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরিতে ‘ইকতা’ (Iqta) ব্যবস্থার ভূমিকা।
২. মুঘল সাম্রাজ্য (The Mughal Empire)
- সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা ও বিস্তার: ১৫২৬ সালে পানিপথের প্রথম যুদ্ধের মাধ্যমে বাবরের মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তীকালে আকবরের হাত ধরে এর সুদৃঢ়করণের ইতিহাস।
- আকবরের শাসননীতি ও মনসবদারি প্রথা: মুঘল সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্র পরিচালনার মূল ভিত্তি ‘মনসবদারি প্রথা’ এবং আকবরের ধর্মীয় সহনশীলতার নীতি (দ্বীন-ই-ইলাহী) ও ‘সুলহ-ই-কুল’ এর বিস্তারিত বিবরণ।
- মুঘল অর্থনীতি ও জাবতি প্রথা: রাজা টোডরমল প্রবর্তিত রাজস্ব ব্যবস্থা (জাবতি বা দহশালা ব্যবস্থা) এবং গ্রামীণ অর্থনীতির পরিকাঠামো।
- মুঘল সাম্রাজ্যের পতন ও জাগিরদারি সংকট: ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতি এবং পরবর্তীকালে জাগিরদারি ও মনসবদারি ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে কীভাবে বিশাল মুঘল সাম্রাজ্য ভেঙে পড়েছিল, তার বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ।
৩. আঞ্চলিক শক্তির উত্থান (Regional Kingdoms)
- বিজয়নগর ও বাহমনী রাজ্য: দক্ষিণ ভারতের এই দুটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দী রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাস, কৃষ্ণদেব রায়ের অবদান এবং বিজয়নগরের উন্নত শাসনব্যবস্থা।
- মারাঠা শক্তির উত্থান: ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের নেতৃত্বে মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা, তাঁর ‘অষ্টপ্রধান’ কাউন্সিল এবং মারাঠাদের রাজস্ব আদায়ের নীতি (চৌথ ও সর্দশমুখী)।
৪. সমাজ, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আন্দোলন
- ভক্তি ও সুফি আন্দোলন: মধ্যযুগীয় সমাজে জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, কবীর, গুরু নানক এবং মীরাবাঈয়ের ভক্তি আন্দোলনের প্রভাব। পাশাপাশি সুফি সন্তদের উদারপন্থী চিন্তাধারা কীভাবে হিন্দু-মুসলিম সংস্কৃতির মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েছিল, তার বিবরণ।
- শিল্প ও স্থাপত্যের বিকাশ: সুলতানি ও মুঘল আমলের স্থাপত্যশৈলীর মিশ্রণে ইন্দো-ইসলামীয় সংস্কৃতির বিকাশ (যেমন- কুতুব মিনার, তাজমহল, ফতেহপুর সিক্রি)।
Reviews
There are no reviews yet.